প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
লাতিফুল আজম কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের তিন গম্বুজ বিশিষ্ট চাঁদ খোসাল জামে মসজিদ। মসজিদটি উপজেলার পুটিমারী ইউপি‘র উঃ ভেড়ভেড়ি গ্রামে অবস্থিত। ইসলামি ঐতিহ্যের অপূর্ব নিদর্শন এক রহস্যে ঘেরা মসজিদটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারাতে বসেছে তার অতীত ঐতিহ্য আর নামাজ আদায় করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক মুসল্লীগণ।
প্রাচীন পান্ডুলিপির কারুকার্যে নির্মিত প্রায় ৪শ বছর আগের এ মসজিদটির নকশা দৃশ্যমান থাকলেও ইতিপূর্বে প্রাচীন পুরাকীর্তিটি কতিপয় স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলে বিগত কয়েক বছর থেকে উপজেলা ও থানা প্রশাসন মসজিদটি দেখভালের দায়িত্ব নেন।
সুনিপুণ কারুকার্যে খচিত রড-সিমেন্ট ছাড়াই চুন, সুরকি,চিটে গুড়,পোড়া মাটির ইট দিয়ে তৈরি মসজিদটি মূল অবকাঠামো নষ্ট হয়ে গেলে এলাকাবাসী তা মেরামত ও সংস্কার করেন নামাজ পড়ার জন্য। আজ ও দৃশ্যমান মসজিদের ভিতরের মেম্বরের সামনের দেয়ালের উপরে ৬টি অলৌকিক বাতি,মসজিদ প্রবেশের ৩টি গিলান পথ, খোদাই কৃত স্পষ্ট আরবি হরফের লেখা।
মতান্তরে এলাকাবাসী জানান, মসজিদটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছে, তা বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনেছি। আবার অনেকেই বলেন, জমিদার লাট বাহাদুর ১৩শতাংশ জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে গেছেন। পূর্বপুরুষদের ভাষ্যমতে, আবার অনেকে জানান, চাঁদ খোসাল মসজিদটি কোন এক ভরা পূর্ণিমার রাতে অলৌকিকভাবে মাটির নিচ থেকে ভেসে উঠে।
তবে সঠিক ইতিহাস জানে না কেউ। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি অনেক মজবুত । ছাদের উপরে গোল আকৃতির ৩টি গম্বুজ। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ফিট, প্রস্থ ১০ফিট, উচুঁ ৩০ ফিট। মসজিদের ইমাম মওলানা মোঃ মাহাতাব উদিন জানান, কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাচীন ও সৌন্দর্যমন্ডিত স্থাপনা হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে পরকালের মুক্তি, মনের বাসনা পূরণ, রোগমুক্তির আশায় প্রতি জুম্মায় দূর-দূরান্ত থেকে হাজারও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ নামাজ আদায় করতে এখানে আসেন।
পাশাপাশি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম মান্নত প্রদান করে আসতেছেন। অনেকের মনোবাসনাও পুরণ হয়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মসজিদটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করায় এলাকাবাসী সব কিছু ঠিক রেখে সংস্কার ও মেরামত করে রঙ করেন এবং সামনের দিকে ইটের গাঁথুনি উঠিয়ে দ্বিতল ভবনের উপরে টিনের চালা দিয়ে নামাজের জন্য কাতার বৃদ্ধি করেছেন।
প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে প্রতি জুম্মায় প্রায় ১৫শ থেকে ২হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। এত বিপুল সংখ্যক মুসল্লী মসজিদের ভিতরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বাইরে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করেন। বর্ষাকালে মুসল্লিদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এলাকাবাসীর দাবি, কালের সাক্ষী পুরনো এ মসজিদটি সংস্কার ও মেরামত করলে প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষা হবে পাশাপাশি মসজিদের বাইরে নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের দুর্ভোগ কমবে এবং দর্শনীয় স্থান হবে, তখন এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মসজিদ কমিটির সভাপতি রোকসানা বেগম জানান, প্রাচীন স্থাপত্য শৈলী ভাঙ্গার কোন নিয়ম নেই। তবে ওই মসজিদের বিভিন্ন ফান্ড থেকে ইতোমধ্যে ২৯/৩০লাখ টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে। কোটি টাকার মত আয় হলে মসজিদ কমিটির সদস্যদের সাথে আলোচনা করে মসজিদটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল জানান, বিভিন্ন ফান্ড থেকে ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। নির্মাণ ব্যয়ে পর্যাপ্ত টাকা জমা হলে নীলফামারী জেলার সেরা মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au