প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
লাতিফুল আজম, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বর্বর হানাদার বাহিনী তার কালো থাবা বিস্তার করে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র নিরীহ অসহায় বাঙ্গালীর উপর। শুরু হয় গণহত্যা। ঠিক তখনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দক্ষিণ বাহাগিলী বসুনিয়াপাড়া গ্রামে।
তথ্য সূত্রে মতে জানা গেছে, সৈয়দপুর থেকে আসা পাকিস্তানি বাহিনী মেজর জাভেদ ইউনুছের নেতৃত্বে রাতের অন্ধকারে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৯ জনকে সারিবদ্ধভাবে বন্দুকের গুলিতে নির্বিচারে পাখির মত হত্যা করা হয়। পিতার সামনে সন্তানকে, সন্তানের সামনে পিতাকে। একই সাথে মা ও কোলের দুগ্ধজাত শিশুকে। শুধুই কি তাই সম্ভ্রমহানি করা হয়েছে মা-বোনদের, বিভিন্ন এলাকা থেকে নিরীহ জনগনকে ধরে এনে ওই স্থানে কোমরে রশি বেঁধে ধুলোরধারায় বন্দুকের বাট দিয়ে করা হয়েছে অসংখ্য নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। এমন মর্মস্পর্শী হ্নদয়বিদারক দৃশ্য আজ ও তাড়িত করে, শহীদ পরিবারগুলোকে।
কিন্তু স্বাধীনতার ৫০টি বছরেও পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে ৯টি শহীদ পরিবার এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাননি। বধ্যভূমি-গণকবর সংরক্ষণে নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। এতে করে শহীদ পরিবার ও গ্রামের লোকজন গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের গাফিলতির কারণে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ শহীদ পরিবারের।
সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১সালে ২৪জুন বাংলা ১৩৭৮, ১০ই আষাঢ় বুধবার রাতের অন্ধকারে বর্বরোচিত ওই হামলায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ৯ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি একই পরিবারের শুকারু তার বড় মেয়ে কাচুয়ানি ও তার কোলে থাকা ছয় মাসের দুগ্ধজাত সন্তান মজিবর।একই গ্রামের অন্য শহীদরা হলেন, আব্দুর রহিম গাডরা, আব্দুস সালাম, আতাহার আলী, এরফান আলী, আজিম উদ্দিন, ঢোডা রায়।
ওই রাতে হানাদার বাহিনীর হাতে আটক প্রানের বেঁচে যাওয়া একই গ্রামের মৃত্যু আছার উদ্দিন সরকারের ছেলে হবিবর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাগণ আমাদের এলাকায় অবস্থান করছেন, এমন স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে রাতের অন্ধকারে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়, এতে শুকারু মামুদসহ ৯ জন শহীদ হন। আর কিছুদিন পর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে জাতি, কিন্তু পাকহানাদার বাহিনীর হাতে ৯ জন শহীদ আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। এতে করে আমি খুব মর্মাহত। বর্তমান সরকার স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হওয়া সত্বেও কেন শহীদরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন না।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবুল জানান, শহীদ পরিবার গুলো প্রথম দিকে আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। পরবর্তীতে জানার পর শহীদ পরিবারের তালিকা ঢাকায় পাঠানোসহ ওই এলাকায় একটি বধ্যভূমি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাহাগিলী ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ্ দুলু বলেন, বধ্যভূমির জায়গা নির্ধারণ করা হলেও সংস্কার করা হয়নি, শহীদ পরিবারের তালিকা উপজেলা প্রশাসনে একাধিকবার জমা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।
শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি ওই এলাকায় একটি বধ্যভূমি নির্মাণ ও গণকবর সংরক্ষণের বিষয়ে ইউএনও মোছাঃ রোকসানা বেগম জানান, আমি কয়েক মাস আগে এখানে যোগদান করেছি, শহীদ পরিবারের বিষয়ে কিছু জানিনা। তবে যাচাইয়ে ৯টি শহীদ পরিবারের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাক সেটা আমিও প্রত্যাশা করছি এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে বধ্যভূমি নির্মাণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্দেশনা পেলে জমি অধিগ্রহণ করে গণকবর সংরক্ষণ করা হবে।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au