প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
লাতিফুল আজম, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ কবি নজরুল ইসলাম কবিতায় লিখেছেন, সাম্যের গান গাই- আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই। “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”। “বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী”।
কিন্তু সেই নারীরা আজও কর্মক্ষেত্রে অবহেলিত। প্রাচীনকালে নারীরা কৃষিতে গোড়াপত্তন করলেও দেশের শ্রমবাজারে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ঘটা করে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নারীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ অনেক কিছুই করা হয়। কিন্তু শ্রম ও আইনেের বাস্তব প্রয়োগ নেই এ উপজেলায়।কৃষি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা।
কৃষিতে রয়েছে যথেষ্ট শ্রমের চাহিদা।পুরুষ শ্রমিকদের মজুরি বেশি ও নারী শ্রমিকদের কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কম থাকায় দিনদিন নারী শ্রমিকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কর্মঘন্টা নেই,শুধু মজুরির ক্ষেত্রে হচ্ছে চরম বৈষম্যের শিকার। সরকারি-বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে নারী পুরুষের লিঙ্গ বৈষম্য কমিয়ে আসলেও কায়িক শ্রমের ক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য যেন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে ওইসব শ্রমজীবী মহিলার উপর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা কাজ করছে সমানতালে। বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের কদর বেশি হলেও মজুরি পাচ্ছেন পুরুষের অর্ধেক। নারী শ্রমিকরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে।
আলু রোপণ, পরিচর্যা, ধান-কাটা মাড়াই, হোটেল সহ সবরকম কাজে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা সাফল্যের সঙ্গে করলেও শ্রম ও ক্রেতা ভূস্বামীদের কাছ থেকে নারীরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না। উপজেলার অধিকাংশ নারী শ্রমিক স্বামী,পরিত্যাক্তা, বিধবা কেউ বা অধিক সন্তানের জননী, আবার কারো সংসারে অভাবের তাড়নায় তাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। বিনিময় কৃষক, মালিক যা দেয় তা দিয়ে ছেলে মেয়ে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়।
যদি কেউ মজুরি নিয়ে প্রতিবাদ করে তবে তাদের কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। পুরুষ শ্রমিক যেখানে একই কাজ করে পায় ৩০০ টাকা সেখানে নারী শ্রমিক পায় ১৫০টাকা। বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরা জানান, সাত সকালে দু,মুঠো খেয়ে কাজে যোগ দিতে হয়।সারা দিন কাজ আর কাজ। দুপুরে কপালে জোটেনা কোন নাস্তা পানি।
জিনিসপত্রের যে দাম গৃহস্থ যে টাকা দেয় তাতে কিছুই হয় না। যা পাই তা দিয়ে কোনমতে বেঁচে থাকি খেয়ে না খেয়ে।এ এলাকার বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে এক তৃতীয়াংশ নারী কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত।আর শ্রম আইনের আওতায় নেই বরং বৈষম্যের শিকার।
সভ্যতার বিকাশে নারীর অবদানের জয় গান শোনা গেলেও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নারী শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো শ্রমের মর্যাদা ধুলোয় লুটিয়ে মিশে যেতে বসেছে। যত বৈষম্য সব যেন শুধু নারীর জন্য। নারী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে শ্রম আইনের বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au