প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
জিল্লুর রহমান জয় (রাজশাহী) : সংবাদপত্র বিক্রি করে জীবন কাটা ছিলেন দীল আফরোজ খুকি। প্রায় ৪০ বছর ধরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হেঁটে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংবাদপত্র বিক্রি করেন তিনি। শহরের একমাত্র নারী সংবাদপত্র বিক্রেতাও তিনি। কিশোরী বয়সে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধের সঙ্গে খুকির বিয়ে হয়েছিল। মাস যেতে না যেতেই স্বামী মারা যান।
১৯৮০ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবার আত্মীয় স্বজন তাকে গৃহ ছাড়া করেন। তিনি কোন সময় মানুষের কাছে হাত পাতেননি! নিজের কর্ম দিয়েই জীবন যাপন করেছেন। বিষয়টি নজরে আসে গণমাধ্যমের। বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তার সংবাদ প্রকাশ হয়। নতুন সময় ২৪ এর রাজশাহী প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান জয়, খুকিকে নিয়ে গত ০৭ নভেম্বর শনিবার একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেন।
তার বিষয়ে খোঁজ নেন রাজশাহীর পবা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন। গত মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সকালে তিনি খুকির বাড়ী যান ও খোঁজ খবর নেন। কথা বলেন দিল আফরোজ খুকী সাথে। জানতে পারেন, খুকির তার বাবা ছিলেন, রাজশাহী জেলা আনসার এডজুটেন্ট এবং মা ছিলেন সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষিকা। অল্প বয়সে বাবা-মা মারা যায়। এজন্যই তার জীবন সংগ্রামী হয়ে উঠে।
তার নিজস্ব বাড়ি আছে। পৈত্রিক ভাবে তারা স্বচ্ছল ছিলেন কিন্তু কিছুটা মানসিক সমস্যা হওয়ায় তার নিজের ভাই বোনও তাকে দেখেনা। বাড়িতে তিনি একাই থাকেন। সকালে বের হয়ে যান পত্রিকা বিক্রি করতে। এরপর সে উপার্জিত টাকায় হোটেলে খান। কয়েক জনকে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল করতে দরিদ্র হিন্দু নারীকে গাভী ও সেলাই মেশিন কিনে দেওয়াসহ বেশ কিছু নারীকে আর্থিক ভাবেও স্বচ্ছল করেছেন খুকি।
আর তার সাথে কথা বলে এসব জেনে মুগ্ধ হন ওই সরকারি কর্মকর্তা। তিনি আরো জানতে পারেন, অনেক সময় মানুষ খুকীকে পাগল ভেবে মারধর করে। মাঝে মাঝে খেতে পান না। তাকে দেখাশোনা করার কেউ নেই। এভাবেই চলছে খুকীর জীবন। এসব দেখে তিনি বুঝতে পারেন, খুকীর দেখা শোনা করার জন্য একজন মানুষ প্রয়োজন।
তিনি খুকীর পুরো মাসের খাবারের ব্যবস্থা করে দেন এবং পাশাপাশি তার দেখা শোনা করার জন্য একজন মেয়েকে দায়িত্ব দিয়ে আসেন। পরবর্তীতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানান পবার এসিল্যান্ড শেখ এহসান। জেলা প্রশাসক খুকীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে শেখ এহসানকে খুকীর বাসার সার্বিক উন্নয়ন ও খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেন।
খুকির বাসা পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন,‘ খুকীর সম্পর্কে জানার পর আমি তাঁর বাসা পরিদর্শন করতে আসছি। তার বাসা অবস্থা ভালো না টিন দিয়ে পানি পড়ে। ডিসি অফিসের পক্ষ থেকে তার বাসার সার্বিক উন্নয়নে ও খাবার সরবরাহের সকল দায়িত্ব এহসানের উপর দেওয়া হল। এহসান সকল দায়িত্ব পালন করবে।’
এ সময় পবা উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান সাংবাদিকদের জানান, সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে দিল আফরোজ খুকীর বিষয়টি আমার হৃদয়ে নাড়া দেয়। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে আলোচনা করি। স্যার আজকে খুকীর বাসা পরিদর্শন করেন। তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় আমি খুকীকে ভালো রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
খুকী আমাকে একটি কথা জানিয়েছে মৃত্যুর আগেই তার বাড়িটি কোন একটা স্কুলের নামে দান করে দিতে চান এবং তার যেন দাফন কুষ্টিয়াতে হয়। তার নাকি জন্মস্থান কুষ্টিয়া। আমি নিয়মিত তার খোঁজখবর রাখবো এবং আমার জায়গা হতে তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au