প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
অনুপম দে, বাঘারপাড়া (যশোর): সনাতন ধর্মাবলাম্বীরা শঙ্খ বা শাঁখা ব্যবহার করেন।হিন্দু সম্প্রদায়ের সধবা নারীদের হাতে হয় শাঁখার ব্যবহার। ভারত ও শ্রীলংকা থেকে শঙ্খ আমদানি করে পুরুষ শিল্পীরা সেই শঙ্খ মেশিনে কাটেন।
তৈরি হয় বিভিন্ন ডিজাইনের শাখাঁ।পরে নারী-পুরুষ শিল্পীরা মিলে নিপুণ হাতে এগুলোর উপর কারুকার্য করেন।বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শঙ্খ দূষ্প্রাপ্য হলেও নানা চড়াই উৎরাইয়ের পেরিয়ে এ কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মানিকদাহ গ্রামের শাঁখা শিল্পীরা। এখনও ধরে রেখেছে শত বছরের শাঁখাশিল্পের ঐতিহ্য। ২০টি পরিবারের নারী-পূরুষ মিলিতভাবে জীবিকার উৎস হিসেবে সূনিপুনভাবে শাঁখা তৈরি করে নিজেদের দক্ষতার দৃষ্টান্তও রেখেছেন।এ জন্য মানিকদাহ শাঁখা শিল্পীদের তৈরি করা শাঁখার চাহিদা এবং মান যথেষ্ট। বিভিন্ন জেলাতেও বাঘারপাড়ার শাঁখা শিল্পীদের সুনাম অক্ষুন্ন রয়েছে। শুধু অলংকার হিসেবেই নয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের বিয়েতে শাঁখার স্থান সর্বাগ্রে। হিন্দু নারীর বিয়ে সম্পন্নের সময় শাখাঁরি বা ঠাকুর কন্যার হাতে শাঁখা পরিয়ে দেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর লাশ শ্মশানে দাহের পূর্ব মুহূর্তে হাতে পরা এ শাঁখা ভেঙ্গে ফেলে দেওয়া হয়। হিন্দু ধর্মালম্বীরা শঙ্খের সুমধুর সুরের মাধ্যমে পুজা-পার্বণের কার্যক্রম শুরু করে।পল্লীর নব বঁধু ও কিশোরীরা মুখের দাগ দূরিকরণেও শাঁখার গুড়ো ব্যবহার করে থাকেন।
সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তৈরি শাঁখা বিক্রি না হওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে ধলগ্রামের মানিকদাহ শাঁখা পল্লীর কারিগররা। কাজ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এনজিওর ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন। অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।বিভিন্ন জেলাতে শাখাঁ সরবরাহ করে জিবিকা নির্বাহ করতেন এই শাঁখা শিল্পীরা। কিন্তু করোনা ভাইরাসে বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন থাকায় বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেছে। হারিযে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ কুটির শিল্প।
উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নে সবুজ বৃক্ষরাজির সুশীতল ছাঁয়ায় ঘেরা মানিকদাহ বাওড় ঘেষে গড়ে উঠেছে এ শাঁখাপল্লী। পৈত্রিক ব্যবসা হিসাবে অনেকেই শাঁখা শিল্পের সাথে জড়িত।শাঁখা তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে সারা বছর সংসার চলে ব্যবসায়ি ও কারিগরদের।কিন্তু সেই স্বচ্ছলতায় বাধা এনেছে মহামারি করোনা ভাইরাস। বর্তমানে করোনার প্রভাবে বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তৈরি শাঁখা বিক্রি করতে না পেরে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এবং আর্থিক সংকটে ভুগছে এলাকার শাঁখা শিল্পীরা।
শাঁখা ব্যবসায়ি তাপস ধর জানান, ব্যবসা অত্যন্ত মন্দা।করোনা ভাইরাসের প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।অনেক মূল্যের তৈরি শাঁখা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পল্লীর সবাই আর্থিক সংকটে ভুগছেন।
শাঁখারি লক্ষণ ধর, হরিচাদঁ ধর ও দিলীপ দত্ত জানান, তাঁরা শাঁখা তৈরি ও শাঁখার উপরে খচিত বিভিন্ন কারুকার্য করেন।স্বাচ্ছন্দেই সংসার চলতো।কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় পাচঁ মাস ধরে তেমন কাজ না থাকায় তাঁরা আর্থিক কষ্টে ভুগছেন। সরকারিভাবেও তেমন সাহায্য -সহযোগিতা পায়নি।তাদের দাবী শাঁখা শিল্পীদের বাঁচাতে আশু সাহায্যের প্রয়োজন।
ধলগ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ দেবনাথ(অভিরাম)জানান,করোনা সংকট মোকাবেলায় সরকারিভাবে উপজেলা প্রশাসন এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে শাঁখা শিল্পে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ও খাদ্য সহযোগিতা করা হয়েছে।শাঁখা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।
নতুন সময়/টিআই
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au