ফারাক্কার ১০৯ গেট খুলল ভারত, বন্যাঝুঁকিতে বাংলাদেশের যেসব জেলা
ঢাকা: ভারতের বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বন্যার জেরে ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। সোমবার (২৬ আগস্ট) গেট খুলে দেয়া হয়। এতে একদিনে বাংলাদেশে ঢুকবে…
মুর্শিদাবাদ প্রতিনিধি : সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ভারতবর্ষের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির শিল্পী মুরারই নামে একজন কর্মী।
বুধবার (২২জুলাই) ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ কথা বলেন।
শিল্পী বলেন, গতকাল ২১জুলাই বাংলা শহিদ দিবস পালন করেছে। ভারত বর্ষের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অলঙ্কার, বাংলার অহঙ্কার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি ঐতিহাসিক বেদনাদায়ক এই দিবসটি স্মরণে ভার্চুয়াল কর্মসূচিতে বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলার জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন। বাংলার জনগণও মমতা ব্যানার্জিকে আশ্বস্ত করেছে।
আগামী ২০২১ এর নির্বাচনে মমতা ব্যানর্জির নেতৃত্বে আবারও রাজ্য সরকার গঠন করবে এ বিষয়ে গতকালকের কর্মসূচির মাধ্যমে মমতা ব্যানর্জির সাথে বাংলার জনগণের সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন হয়ে গেছে।
শিল্পী বলেন, বাংলার মানুষ বাইরে নেতৃত্ব চায় না, বাংলার মানুষ নিজেরাই নিজেদের নেতৃত্ব তৈরি করতে পছন্দ করে। মা মাটি মানুষের সরকার যতদিন থাকবে ততদিন বাংলার মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, কর্মস্থান নিশ্চিত থাকবে। গতকাল বাংলার মানুষ মমতা ব্যানার্জিকে বলেছে-তারা আসামের ১৯লক্ষ হিন্দু বাঙালির মত নির্মম ভাগ্যবরণ করতে চায় না। বাংলার মানুষ ত্রিপুরার মতো হাজার হাজার মানুষের চাকুরী হারাক সেটা চায় না। বাংলার মানুষ উত্তর প্রদেশের জংলি যোগী আদিত্যনাথের কুশাসন চায় না। গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের মত জংলির শাসন চায় না।
অনুব্রত মন্ডলের এই রাজনৈতিক শিস্য শিল্পী বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে কিন্তু বাংলার উন্নয়ন প্রশ্নে কোনো আপোষের সুযোগ নেই। দলের উর্ধে উঠে মমতা ব্যনার্জি সবাইকে একসাথে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। বাংলার মা হিসেবে নিরলসভাবে তিনি তার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন। মমতা ব্যানার্জি বাংলার মানুষ খোলামেলাই বলেছেন, দিল্লীতে বসে বাংলা নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন মমতা ব্যনার্জি। বিশেষ করে ছাত্র, যুবশক্তি যারা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে মমতা ব্যানর্জি তাদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মমতা ব্যনার্জির তৈরি এই ছাত্র এবং যুব শক্তি বাংলা তথা ভারতবর্ষের নেতৃত্ব দেবে।
শিল্পী আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জির এই দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য শোনার পর একজন বাঙালী হিসেবে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। কিন্তু যখন মনে হলো বাংলায় শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী, মীর জাফরদের প্রেতাত্বারা এখনও আছে। এরা বিজ্ঞানকে উপেক্ষা করে করোনা ভাইরাসকে গোমূত্র, গোবর, ঘন্টা বাজানো দিয়ে বিদায় করতে চায় । দু:খজনক হলেও সত্যি এই গোমূত্রপায়ীদের রাজনৈতিক ক্লাব ভারতীয় জনতা পার্টি আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করেছে যা স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই সরকারের কিছু উচ্ছিস্টভোগী আছে বাংলায়। যারা বাংলার জল হাওয়া খেয়ে গুজরাতি ভাষায় হুক্কাহুয়া করে দিল্লীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করার অপচেষ্ট চালায়। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য শেষে রাহুল সিনহা নামে বিজেপির কোন নেতা নাকি এবিপি আনন্দে শিষ্টাচার বহির্ভূত চরম নোংরা বক্তব্য দিয়েছে।
শিল্পী বলেন, সামাজিক মাধ্যমে অনেক বন্ধু তা নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যা শুধু বাংলা নয় বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য লজ্জার, ঘৃণার, অপমাণের। কারণ প্রত্যেক মানুষই নারীর পেটে জন্ম নেয়। রাহুল সিনহার এই ধরণের নোংরা বক্তব্য প্রচার করে গণমাধ্যম কি তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন? রাহুল সিনহার যে বক্তব্য তা নিয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া আসলে নেই। কারণ ভিন্নমতালম্বী হলে তার সাথে যুক্তি তর্ক করা যায়। কিন্তু যে অসুস্থ মস্তিস্কের তার সাথে তো তর্ক করা যায় না, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়।
শিল্পী বলেন, আমি আমার পুলিশ দাদাদের কাছে কাছে অতি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি-অনতিবিলম্বে রাহুল সিনহাকে আপনাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুণ। আসলে রাহুল সিনহা একজন অসুস্থ মস্তিস্কের তাই সে গুটি হিসেবে ইউজ হয়েছে। এর মদদদাতা হচ্ছে দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ, মোদি, অমিতসাহ এদের থেকে সভ্য আচারণ আশা করা যায় না। তাই এদের বাংলা থেকে নির্মূল করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সামনে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি আমাদের মধ্যে লোভ-লালসা সৃষ্টির চেস্টা করবে। তৃণমূল সৈনিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করবে। তাই নিজের মধ্যে ছোটখাটে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন, মমতাব্যানার্জির মমতাময়ী হাতকে আরও শক্তিশালী করুণ। আপনাদের কোনো ভয় নেই, দিদি আছেন। দিদি থাকবেন।
শিল্পী বলেন, আগামীর বছর হবে বাংলার কর্মস্থানের বছর, আগামীর বছর হবে বাংলার স্বনির্ভরতার বছর। ২০২১ বিজয়ের বন্দরে ঘাসফুলের সৈনিকেরাই নোঙড় দেবে। সেই মনোবল নিয়ে আমাদের সবাইকে আজ থেকেই মাঠে নামতে হবে।
নতুন সময়২৪ডটকম
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au