মালয়েশিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে একটি আদেশ জারি করেন দেশটির রাজা সুলতান আব্দুল্লাহ। এর আগে আজ দুপুরে আচমকা পদত্যাগ করেন মাহাথির মোহাম্মদ।
পদত্যাগের পর স্থানীয় সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় তিনি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে রাজপ্রাসাদে যান। এসময় পুনরায় তাকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাজা।
মাহাথির সরকারের মুখ্যসচিব মোহদ জুকি আলি বলেন, মাহাথির মোহাম্মদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাজা। তবে নতুনভাবে সরকারপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মাহাথিরকেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।
মোহাম্মদ জুক আলী এক বিবৃতিতে জানান, মাহাথিরকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাজা। সংবিধানের আর্টিকেল ৪৩ (২)(এ) মেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ পাওয়া না পর্যন্ত তিনিই এ দায়িত্ব পালন করবেন। ফলস্বরূপ, নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত ও মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হওয়ার আগে দেশটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবেন তিনি। সংবিধানের আর্টিকেল ৪৩ (২)(এ) অনুসারে, রাজা পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষে নিজের পছন্দসই প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন।
মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে গত কয়েক দিন ধরে বেশ জটিলতা চলছে। ২০১৮ সালে অবসর ভেঙে রাজনীতিতে ফের আসার সময় সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে জোট গঠন করেছিলেন। তখন কথা ছিল, দুই বছর পর মাহাথির পদত্যাগ করলে আনোয়ার ইব্রাহিম হবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আনোয়ারকে ক্ষমতায় আনার ব্যাপারে এখন আর কোনো কথা না বলায় সংশয়ের সৃষ্টি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি দল মাহাথিরকে সমর্থন দিতে এগিয়ে আসে। ফলে আনোয়ার ইব্রাহিম উপেক্ষিত হবেন বলে ধারণার সৃষ্টি হয়। আনোয়ারের দলের কয়েকজন সদস্যও তাকে ত্যাগ করেন। তবে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, প্রাসাদ অভ্যুত্থানের সাথে মাহাথির জড়িত নন। মাহাথিরের নাম ব্যবহার করে কেউ একাজ করে থাকতে পারে।
আনোয়ার ইব্রাহীম এবং ৯৪ বছর বয়সী বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির ছিলেন দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০১৮ সালে দুর্নীতিগ্রস্ত নাজিব রাজাকের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেন তারা। বিরোধী জোটের জয় হয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মাহাথির মোহাম্মদ।