বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) নেতাদের কাছে জিম্মি ঢামেকের নার্সরা
ঢাকা: বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল শাখার নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্নের আনুমানিক দেড় বছর পার হয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে হচ্ছে না নির্বাচন। সাধারণ নার্সরা বলছেন, তারা নতুন নেতৃত্ব চান।
তাদের দাবি, বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অদৃশ্য ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচন আটকে রেখেছে।
সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এবং ঢামেক হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি করে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন তারা। এ হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের নিজেদের প্রাপ্য সরকারি সুবিধাগুলো পেতে হলেও এই নেতাদের কাছে ধর্না ধরতে হয়। আর সেই সুযোগের সদব্যবহার করে তারাও ফাঁয়দা লোটেন।

বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) নেতাদের কাছে জিম্মি ঢামেকের নার্সরা
নার্সদের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, স্বাস্থ্য সেক্টরের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঘেষা শক্তিই বিএনএ নেতাদের টিকে থাকার খুঁটি। কিন্তু এরা কেউই মূলত আওয়ামী রাজনীতির অনুসারী নন। তাদের ইতিহাস ঘেটে এমনটাই জানা গেছে।
অনেকে বলছেন, ঢামেক হাসপাতালের নার্স সংগঠনে ‘আওয়ামী লীগের মোড়কে বিএনপির আধিপত্য’ চলছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে একটি ছবি এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান জুয়েল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন সম্বলিত ব্যানারের একটি মিছিলে সামনের কাতারে রয়েছেন। অথচ এই জুয়েলই নিজেকে এখন আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে উপস্থাপন করছেন। দলের বিভিন্ন দিবস কিংবা কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে সরকারি দলের লোক হিসেবে নিজেকে জাহির করে অবৈধ নানা সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন।
এছাড়া সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের সাবেক এক মহাপরিচালককে ফাঁসাতে বঙ্গবন্ধুর ছবির অবমাননার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় কামালসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, তিনি যদি আওয়ামী লীগপন্থি হয়ে থাকেন তাহলে কিভাবে একটি ষড়যন্ত্রমূলক কাণ্ড ঘটাতে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করলেন। কামাল পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে এসব ছাড়াও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে যার প্রতিবেদন পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।

বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অদৃশ্য ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচন আটকে রেখেছে
তাদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, লোকাল ও বিদেশ ট্রেনিং এবং হজ্ব টিমের নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়েও ঘুষ বাণিজ্য করার শোনা যায়। সাধারণ নার্স কর্মকর্তাদের এক কথায় ভাষ্য হচ্ছে- ঢামেক হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা স্বেচ্ছাচারী বিএনএ নেতাদের কাছে জিম্মি। এসব অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতেই নির্বাচন দিতে সময় ক্ষেপণ করছেন তারা।
বিএনএ ঢামেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন পাটোয়ারী উল্লেখিত অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সংগঠনের বিরোধী পক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।
সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নতুন সময়/টিআই