হিন্দু মুসলিম ঐক্যমঞ্চ পেজের লাইভে বক্তব্য রাখছেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী শিল্পী মুরারই
মুর্শিদাবাদ প্রতিনিধি (ভারত) :
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালী নেতা অনুব্রত মন্ডলকে দেখে শিক্ষা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের শিল্পী মুরারই নামের এক কর্মী।
শনিবার সন্ধ্যায় ‘হিন্দু মুসলিম ঐক্যমঞ্চ’ নামের একটি পেজ থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী মোদির সমালোচনা করতে গিয়ে শিল্পী মুরারই বলেন, বিজেপি সব জায়গা দাঙ্গা সৃষ্টি করছে, মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শিল্পী বলেন, ‘বীরভূমের অভিভাবক অনুব্রত মণ্ডল যাকে গোটা দেশ চেনে। এমনিক সারা বিশ্ব তাকে জেনে গেছে হয়তো। প্রধানমন্ত্রী বাবু আপনি উনাকে দেখে শিখতে পারেন। কিভাবে মানুষকে ভালোবাসা যায়। কিভাবে মানুষকে কাছে নিয়ে যায়। বাংলার প্রতি এত হিংসা কেন? কিসের বিদ্বেষ? এগুলো বন্ধ করুন।’
এছাড়াও বীরভূমের কাজল সেখ, রানা সিং, চন্দ্রনাথ সিনহা, অসিত মাল এমপি, তৃণমূল নেত্রী শতাব্দীরায়সহ দল এবং রাজ্য সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর থেকে শিক্ষা নিতে মোদির প্রতি আহবান জানান তিনি।
বিজেপির কঠোর সমালোচনা করে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এই সৈনিক বলেন, ‘বিজেপি আমাদের মধ্যে যে হিন্দু-মুসলিমের ভেদাভেদ সৃষ্টি করছে সেটা নিয়ে রাজনীতি করে একটা বাজে পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।’
শিল্পী বলেন, ‘কোটিপতি সবাই প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু, গরীব মানুষ প্রধানমন্ত্রীর শত্রু। আমাদের যিনি প্রধানমন্ত্রী দেশ চালাচ্ছেন আমাদের প্রতি আজকে তার কর্তব্য কি ছিলো?আজকে আমাদের দেশের কুড়ি জন সেনা হারিয়ে ফেললাম। আমাদের দেশে যদি আজকে মনোমহন সিংয়ের মতন একজন ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী থাকতেন তবে কুড়ি জন সেনা নয়, কুড়ি সেকেন্ডের মধ্যে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে দিতেন।
তিনি বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নয় আমরা মানুষ হিসেবে পরিচিত হতে চাই। একে অপরের পাশে দাঁড়াই। আমি যদি মানুষ হয়ে মানুষের পাশে না দাঁড়াতে পারি, তাহলে আমরা কিসের মানুষ? সবাইকে বাঁচতে দিন।’
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ‘বাংলার মা’ আখ্যা দিয়ে শিল্পী বলেন, ‘এই বাংলার বাবা-মা সবকিছুই মমতা ব্যানার্জি ‘
তিনি বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি একটা দেশ চালানোর ক্ষমতা রাখে। আর যে ব্যক্তি দেশ চালাচ্ছেন তার একটা রাজ্য চালানোর যোগ্যতা নেই। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বসে আছেন।
আগামী ২০২১-এ বিধান সভার নির্বাচনে সবাইকে হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
করোনা পরিস্থিতি, আম্ফান, সীমান্তে সেনার নিথর দেহ,দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতিসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আছেন বলেও লাইভের শুরুতে জানান শিল্পী। এছাড়াও পেজের এডমিনদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।