প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিবন্ধিতার কারণে খুব ছোট থেকেই নিদারুণ কষ্ট আর দুর্ভোগের মাঝে জীবনের চাকা ঘুরছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বাচিক শিল্পী দেবস্মিতা নাথ কবিতার। শারীরিক বিকলাঙ্গতা তার বাস্তবতা হলেও মানসিকভাবে তিনি স্বপ্ন দেখেন আকাশ ছোঁয়ার। সেই স্বপ্নকেই একটু একটু করে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন আবৃত্তির মাধ্যমে। হতে চান প্রতিবন্ধীদের মা।
সম্প্রতি ঢাকার সাংবাদিক খালিদ হোসেনের সাথে ভার্চুয়াল এক আড্ডায় এ কথা জানান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমানের দূর্গাপূরের কলেজ শিক্ষার্থী দেবস্মিতা নাথ কবিতা।এসময় দেবস্মিতার মা সুমিতা দেবনাথ। এতে আরো যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের অন্যতম সংগঠক মো। হাবিবুর রহমান।
প্রতিবন্ধিদের শোনাতে চান জীবনের জয়গান। তাদেরকে বলতে, চান জীবন সুন্দর। আমাদেরও বাঁচার অধিকার রয়েছে। দেশ ও সমাজকে কিছু দেয়ারও আছে । প্রত্যেক প্রতিবন্ধী মানুষকে বুকে টেনে নিতে চান পরম মমতায়। হতে চান প্রতিবন্ধিদের মমতাময়ী মাা।
দেবস্মিতা বলেন, সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে অন্য আর সবার মতো শারিরীক সক্ষমতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারেননি তিনি।প্রতিবন্ধীতাকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি এগিয়ে চলছেন আপন গতিতে। প্রতিবন্ধিদের শোনাতে চান জীবনের জয়গান প্রত্যেক প্রতিবন্ধি মানুষকে বুকে টেনে নিতে চান পরম মমতায়। হতে চান প্রতিবন্ধিদের মমতাময়ী মাা।
দেবস্মিতার মা সুমিতা দেবনাথ বলেন, ২০০১ সালের ১৬ ই এপ্রিল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে জন্ম হয় দেবস্মিতার। জন্মের পর পরই কিছু বোঝা না গেলেও ৬ মাসের মাথায় গিয়ে অনেক রকমের সমস্যা দেখা দিতে থাকে দেবস্মিতার মধ্যে ।
মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকা, সোজা হয়ে বসতে না পারার মতো বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয় তার । তারপর থেকে বহু নিউরো ডাক্তার দেখিয়ে, নানান ভাবে চেষ্টা করলেও আশার বাণী শোনাতে পারেননি কেউই। শেষে ভেলোরের এক নিউরো সার্জেন, ডা: থমাস জোসেফ বলেন, “ওর সেরিব্রাল পালসি নামের একটি রোগ হয়েছে। তবে ওকে কোনোদিনই হোমে দেওয়া যাবেনা। ফিজিও থেরাপি করাতে হবে,অনেক কথা ,কবিতা ,গান শোনাতে হবে, সাঁতার শেখাতে হবে, এবং অন্য পাঁচটা সাধারণ বাচ্চার মতোই জেনারেল স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। শুধু মাত্র স্বাভাবিক জনজীবনের সঙ্গে তার মিলমিশ ঘটানোই এই রোগের একমাত্র ওষুধ।”
তিনি বলেন, এরপর শুরু হয় দেবস্মিতার আসল লড়াই। তিন বছর বয়সে প্রথম স্কুলে ভর্তি করা হয় তাকে। তারপর থেকেই মা, বাবা, মামা ইত্যাদির মতো ছোটো ছোটো শব্দ বলা শুরু করে সে । স্কুলে ভর্তি হবার প্রথম দিকে হাত মুঠো করে রাখতো , সেটাও আসতে আসতে খুলতে শুরু করলো সে।আসতে আসতে দেয়াল ধরে হাঁটারও চেষ্টা শুরু করলো। প্রথমে ছোট কবিতা বলা ,তারপর অন্য স্কুলে কবিতা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিল দেবিস্মিতা।
দেবস্মিতার মা আরো বলেন, প্রথম অন্য স্কুলে গিয়ে কবিতা প্রতিযোগীতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমেই কবিতা জীবন শুরু হয় দেবিস্মিতার। প্রথম গুরু শম্পা রায়চৌধুরি । তারপর থেকে কখনোই ওকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি । কিন্তু কবিতার উত্তরণের সাথে সাথেই স্কুলে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছিলো দেবস্মিতাকে । পর পর চারটি স্কুল পরিবর্তন করার পর শেষমেষ দশম শ্রেণী ভালো ভাবে পাশ করে সে। এদিকে প্রচুর পুরস্কার , সম্মান ,অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দূর্গাপুরে নিজের একটা শক্ত জায়গা করে নিয়েছিল ।
তিনি বলেন, ১৭ বছর বয়সে কলকাতার সুজাতা সদনে প্রথম শিল্পী হিসেবে কবিতার যাত্রা শুরু হয় দেবস্মিতার । ১৮ বছর বয়সে ভাবনা রেকর্ডস থেকে কোলকাতা প্রেস ক্লাবে রবীন্দ্র কবিতা সিডি প্রণমি প্রকাশ হয় তার। যদিও এই পথ খুব সহজ ছিল না তার কাছে। তারপর রবীন্দ্র সদন , বিড়লা একাডেমি ,শিশির মঞ্চ , ত্রিগুনাসেন মঞ্চ ,বাংলা একাডেমী সহ বিভিন্ন মঞ্চের হাত ধরে তার কবিতার বিকাশ ঘটে। ১৮ বছর বয়সে পঞ্চমবর্ষ বঙ্গ প্রমীলা কৃতী রত্ন সম্মান , মনোন সাহিত্য প্রত্রিকা থেকে সম্মান পায়।
দেবস্মিতার মা আরো বলেন, দেবস্মিতা এখন কিছু বাচ্চাকে কবিতা, আবৃত্তি পাঠ শেখায়। সদ্য বেঙ্গল বোর্ড থেকে ১২ ক্লাস পাশ করে এখন ইন্দিরা গান্ধী ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ইংলিশ অনার্স পড়ছে দেবস্মিতা। তার বাবা দেবাশীষ নাথ, পেশায় ব্যাঙ্ক কর্মী তিনি পরিবারের অর্থের যোগানের ব্যবস্থা করেন আর আমি সার্বক্ষনিক থাকি দেবস্মিতার লড়াইয়ের সার্বক্ষনিক সঙ্গী হিসেবে।
দেবস্মিতার সফলতা কামনা করে মো: হাবিবুর রহমান বলেন, আমি নিজেও একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী। দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গার প্রতিবন্ধী মানুষের গল্প একই একমাত্র মা ছাড়া তাদের পাশে কেউ থাকে না। এজন্য দেবস্মিতার মাকে আমি কূর্ণিশ জানাই।দেবস্মিতার লক্ষ্য পূরণ হোক।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au