প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
জিল্লুর রহমান জয় : আজ ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষেরা চার সপ্তাহ পাপ স্বীকারের মধ্যদিয়ে পার করেছেন। তবে করোনা মহামারির কারণে এদিনটি মহা ধুমধাম করে পালন করতে পারছেন না তারা। খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট আজকের দিনে বেথলেহেম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনা করার জন্য যিশুখ্রিস্ট জন্ম নিয়েছিলেন। খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা আজ সারাদিন আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন। দিনটি উপলক্ষ্যে অনেক খ্রিস্টান পরিবারে কেক তৈরি হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন।
জানা গেছে, গত বছর বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে অনাড়ম্বরভাবে বড়দিন উৎসব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজশাহীর খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা। এবারও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ঘরোয়াভাবে থাকছে উপহার নেয়া-দেয়া, কেক কাটা ছাড়াও ভোজ। থাকছে না আঁতশবাজি, গান বাজনা। আজ নগরীর বিভিন্ন গির্জায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অল্প সংখ্যক উপাসক নিয়ে প্রার্থণা করা হবে। গির্জায় সমসাগম এড়াতে প্রার্থনা শেষ হলেই নিজ নিজ বাড়িতে উৎসব পালন করবেন তারা।
বুধবার ২২ ডিসেম্বর নগরীর বাগান পাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলুন, নকশা করা কাগজ ও জরি ব্যবহার করে সাজাতে নগরীর পবিত্র উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গির্জা। শুধু এই গির্জা নয়, নগরীর সব গির্জার ভেতরেই গত কয়েক দিন উৎসবের প্রস্তুতি চলছিল। গির্জায় গির্জায় বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস মাস বা দেবদারু গাছ। যিশুর জন্মের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গোশালায়। এত সব আয়োজন ২৫ ডিসেম্বরকে ঘিরে।
নগরীর বাগানপাড়ার পবিত্র উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গির্জার প্রধান ফাদার ইম্মানুয়েল কে. রোজারিও জানান, ঈশ্বর পুত্র মুক্তিদাতা। তাঁর স্মরণে প্রার্থনা, পূজা, আর্চনার বিশেষ দিনগুলো পার করছি। এ কয়েকদিন পাপ স্বীকার, ধ্যান, উপাসনা করা হয়েছে। বাগান পাড়ার ৪০০ পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবটি পালন করছেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এবারও সীমিত থাকছে আনন্দ। গান, আবৃত্তি, নাটিকা করা হবে না।
তিনি আরো জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর ৮ টায় খ্রিস্টযোগ থেকে বড়দিনের উৎসব শুরু হয়েছে। আজ ২৫ ডিসেম্বর শনিবার ১ম খ্রিস্টযোগ সকাল সাড়ে ৭ টায়। ২য় খ্রীস্টযোগ ৯ টায়। তারপর নিজ নিজ বাড়িতে পারিবারিকভাবে দিনটি পালন করবে সবাই। ঋতুপর্ণা মুর্মু (১৫) নামের একজন বলেন, আমার পরিবারের সবার কেনাকাটা করা হয়েছে। প্রতিবছর যিশুর জন্ম দিনে সকালে প্রার্থনা শেষ করে অনেক মজা করি। আজ খাবো, বান্ধবীর বাসায় বেড়াব, উপহার দেবো। গল্প করবো, গান শুনবো।
নগরীর কয়েরদাড়া খ্রিস্টান পাড়ার পবিত্র পরিবারের ধর্মপল্লী থেকে ফাদার হেনরী পালমা বলেন, এখানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি খ্রিস্টান পরিবারের বসবাস। করোনা ভাইরাস আর স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী আমাদের উৎসব পরিবারের সাথেই ভাগাভাগি করতে হচ্ছে। সকাল ৮ টায় বড়দিনের মহা ক্রিস্ট যোগের প্রার্থনা। স্বপন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব কাটাতে না কাটাতে ওমিক্রন এসে হাজির। তাই আয়োজনে গির্জা চাকচিক্য হলেও বাড়ি ঘরে চাকচিক্য নেই বললেই চলে।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au