ঘাসফুল মানে বাংলার অক্সিজেন
শিল্পী মুরারই: অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আজ লিখতে বসেছি, কারণটা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন এবং বোঝেন। আমি যখন লিখছি তখন বার বার মনে হচ্ছে বীরভূমের মহাম্মদ বাজার থানার বেলঘরিয়ার কৃতি সন্তান শহিদ সেনা রাজেশ ওরাঁও এবং আলিপুরদুয়ারের শামুখতলা থানার বিন্দিয়া পাড়ার বিপুল রায়ের কফিন, তাদের পরিবার পরিজনদের কথা। ভারত-চিন লড়াইয়ে দেশের জন্য যে কুড়ি জন সেনা জওয়ান তাদের জীবন উৎস্বর্গ করেছেন ভাবছি তাদের পরিবারের কথা। দেশ রক্ষায় আমার দাদারা প্রাণ দেয় এটা ভাবতে যেমন গর্বে বুকটা ভরে ওঠে, স্যালুট জানাই। আবার যখন দেখি যে নির্মমতার মধ্যে তারা শহিদ হলেন তাদের পরিবার পরিজনের স্বপ্ন, আর্থিক, সামাজিক নিরাপত্তা যে ভেঙ্গে গেলো সেটা নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন থাকলেও ভরসা পাই যখন দেখি নবান্নে ভারতবর্ষের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অহঙ্কার, বাংলার অলঙ্কার মমতা বন্দোপাধ্যায় আছেন। ইতিমধ্যে তিনি বাংলার শহিদ পরিবারগুলোর জন্য নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এটাই হচ্ছে তাঁর দলের রাজনীতি, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি, যেটাকে আমি বলতে চাই, ঘাসফুলের সুভাস, বাংলার মানুষের বাঁচার অক্সিজেন।
অপর দিকে ভারতবর্ষের জনগণ দেখেছে কিভাবে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়িদের বিদেশ পালাতে সাহায্য করেছে, নেটবন্দি করে সাধারণ মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে, এনআরসি/সিএএ কালা নীতির মাধ্যমে আসামে ১৯লক্ষ হিন্দুধর্মালম্বী মানুষকে বন্দি করে রেখেছে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যময় ভারতবর্ষের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, দুস্কৃতিবাজদের সমিতি তথা বিজেপি নামক দলের অলঙ্কার মোদি নরেন্দ্র মোদি সরকার।
দাঙ্গাহাঙ্গামা প্রিয় এই মোদি যেখানেই যাচ্ছেন, তার ছোঁয়া যেখানে পড়ছে সেখানেই মানুষের অধিকার মারাত্নকভাবে লংঘিত হচ্ছে। আমরা গুজরাট দাঙ্গার কথা সবাই জানি। সেটা হয়ত পুরানো।
কিন্তু এই করোনাকালে যে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় উম্ফান বয়ে গেলো। একদিকে করোনার প্রকোপ অন্যদিকে উম্ফান বাংলায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে বাংলার মানুষের জন্য যিনি কাজ করে যাচ্ছেন সেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডে রাজস্ব বাবদ বাংলার পাওনা ৫২হাজার কোটি টাকা না দিয়ে বরং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করতে মোদি সরকার ও বিজেপি প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তের কথা আমি আজ বলছি না। ভারতবর্ষের দেশ প্রেমিক প্রতিটা মানুষই বলছে, গত ৭০ বছরে যারা চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাইনি। মোদিজীর আমলে পাল্টা আমাদের চোখ উপড়ে স্পর্ধা দেখাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতবর্ষ তথা বাংলার রাজনীতিতে দুস্কৃতিবাজদের সমিতি তথা বিজেপির নেতাকর্মীদের আনাগোণা সেই ভবিষ্যত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামল এই বাংলার আকাশে শকুনের আনাগোণা দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় জনতা পার্টি তথা বিজেপি নামক ওই রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতাকর্মীরা শুধু ভারতবর্ষেই নয় বিশ্বজুড়ে কলঙ্কিত দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। খুন, ধর্ষন, হত্যা, মাদক, চোরাচালানসহ সকল ধরনের কুকীর্তির সাথে নিজেদের সমর্থক করে তুলেছে। যেখানেই বিজেপি নামক এই যুগের রাবনদের রাজত্ব চলছে সেখানেই মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে, নিপীড়িত হচ্ছে। মানুষ কি খাবে? কি পড়বে সেটা তারা বাধ্য করে দিচ্ছে। তাদের কথা না শুনলে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে।
আমি রাজনীতি করি, নগণ্য একজন রাজনৈতিক কর্মী। জনগণ রাজ্য ও রাষ্ট্রের কল্যাণের নীতিকেই আমি রাজনীতি বুঝি। এই রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আমরা সবাই জড়িত। অর্থাৎ কেউই রাজনীতির বাইরে নয়। আমরা যারা প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত, সে যে যে স্তরের হয় না কেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যদি আদর্শ না থাকে তবে তার মধ্যে দেশ প্রেম খুঁজে পাওয়া দুস্কর। দেশপ্রেমহীন মানুষ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে তা জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। যা বিজেপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিদ্যমান।
কিন্তু আমি আশাবাদী। কারণ আমি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শের রাজনীতি করি। বীরভূমের মাটি ও মানুষের আশ্রয়দাতা বটবৃক্ষ অনুব্রত মন্ডল তথা সবার প্রিয় কেষ্ট দাদার আশীর্বাদপুষ্ট। আমার মাথার ওপর রয়েছে নানুরের গরীবের রবিন হুড কাজল সেখের মত যুব আইকনের হাতের ছায়া। রানা সিংদের মত স্বজ্জন মানুষের ছায়া।
অনুব্রত মন্ডল তথা কেষ্ট দা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি তার বিশ্বস্ত হাতিয়ার হিসেবে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তলে । বর্ণাঢ্য সংগ্রামী জীবনের মাধ্যমে অনুব্রত মন্ডল পৌঁছেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। যিনি আজ শুধুই একজন নেতা নয়, অনুব্রত মন্ডল নেতা তৈরির কারিগর। কাজল সেখ, রানা সিংদের মত আইকন তৈরি করেছেন। ভারতবর্ষকে যেমন বাংলা তথা মমতা বন্দোপাধ্যায় আলোর দিশারি হয়ে পথ দেখান, তেমনি বীরভূমবাসিকে পথ আলোর দেখার অনুব্রত মন্ডল। বিশ্বস্ততার সাথে আর তার সেই আলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন কাজল সেখ রানা সিংদের মত নেতৃত্ব ব্যক্তিত্বের মানুষগুলো। তাই যতদিন বাংলায় মমতা আছেন, বাংলায় জোড়াফুল আছে, বাংলায় ঘাসফুল আছে, তৃণমূল কংগ্রেস আছে, বীরভূমের অহঙ্কার বাংলার অলঙ্কার অনুব্রত মন্ডল আছেন। তার বিশ্বস্ত সৈনিক কাজল সেখ, রানা সিংদের মত মানুষগুলো আছেন। ততদিন বাংলায় শকুনরা ডানা মেলে উড়তে পারবে না। মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। যতদিন বাংলায় মমতার হাতিয়ারগুলো থাকবেন, সৈনিকরা থাকবেন, তৃণমূলের কর্মীরা থাকবেন ততদিন শান্ত বাংলা হবে শান্তিপূর্ণ মানুষের আবাসভূমি। ঘাসফূলের যে সুভাস তাতেই মানুষের বাঁচার অক্সিজেন, বাংলার অক্সিজেন।
লেখক : শিল্পী মুরারই, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী
নতুন সময়/ভিআরথি