প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
লায়ন ইসলাম খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামায় বহু বছর ধরে বাড়ির আনাচে কানাচে কিংবা বনে জঙ্গলে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা স্থানীয় জাতের ওলকচু চাষ করে আসছেন অনেকে।
তবে ওলকচু চাষে ভাগ্য ফেরাতে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাদ্রাজি ওলকচুর বিষয় কৃষকের কাছে তুলে ধরেন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে চলতি বছর উপজেলার ভাবকী গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক, আব্দুস সামাদ, সাবেক গুলিয়াড়ার জ্যোতিশ চন্দ্র রায় লেবু ও চককাঞ্চন গ্রামের মহসীন আলী এবং ভেড়ভেড়ী গ্রামের সবুজ চন্দ্র সহ ১২ জন কৃষক ২৪০ শতক জমিতে মাদ্রাজী জাতের ওলকচু চাষ করছেন।
জানা গেছে, এরাচিয়ে গোত্রের বর্ষজীবী কন্দোদ্ভব গুল্ম ফসল ‘ওলকুচ’। প্রাক আর্য ভাষা ‘ওল্ল’ থেকে নামকরণ হয়েছে ‘ওল’। যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘অ্যামরফোকালাস ক্যাম্পানুলাটাস’, ইংরেজি নাম ‘এলিফ্যান্ট-জাম’, সংস্কৃত নাম ‘শূরণ’ বা ‘ভূকন্দ’ আর হিন্দী নাম ‘জমিন কন্দ’। পুষ্টিগুণের দিক থেকে ওলকচুতে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন, থায়ামিন, লোহা, আঁশ, নিকোটিনিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়া, ভিটামিন রয়েছে প্রচুর পরিমাণে।
তাই ওলকচু খেলে পেটের পীড়া, ফোঁড়া, হাঁপানি, বমনোদ্রেককর অবস্থা, গোদ, অর্শ বাত, রক্তের ব্যাধি, প্লীহার স্ফীতি প্রভৃতি নিরাময় হয়। আর গাছের উপরের অংশ কানের ব্যথা, গলা ফুলা, ফুসকুড়ি, কলেরা, উদরাময়, বিষাক্ত পোকামাকড়ে কামড় ইত্যাদি অসুখ সারাতেও ব্যবহার হয়।
ভাবকী গ্রামের কৃষক ও সাবেক শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, আগে তো বাড়ির আশপাশে দেশি জাতের ওলকচু চাষ করতাম। এবার মাদ্রাজী জাতের ওলকচু লাগিয়েছি। মাদ্রাজী ওলের ফলন ও গুণাগুণ বিষয়ে জানতে পেরে কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করেছি।
২০ শতক জমিতে চাষ, নিড়ানী ও অন্যান্য বাবদ এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ছয় হাজার টাকা। ফসল তোলা পর্যন্ত আরও কিছু খরচ হবে। আশা করি আগামি ৩-৪ মাসের মধ্যে ওলকচু সংগ্রহ করা যাবে।
অপর কৃষক গুড়িয়ারা গ্রামের মহসিন আলী বলেন, আমি এবার প্রথম ওলকচু চাষ করছি। মানুষের কাছে শুনি ওলকচুতে লাভ হয়। তাই আমি আগ্রহী হয়ে মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষ করছি।
ওল চাষে খরচ কম। ফসল তোলা পর্যন্ত ২০ শতক জমিতে খরচ হতে পারে প্রায় আট হাজার টাকার মত। উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, ওল একটি লাভজনক কন্দ জাতীয় সবজি।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নত জাতের ওলকচু চাষ করে অনেকে ভাগ্য বদলেছেন। ওল চাষে উঁচু জমি দরকার। রোদ পায় এমন বেলে-দো-আঁশ মাটিতে ওল ভালো বাড়ে। ওলের বীজ হিসেবে রোপণ দ্রব্যকে ‘চাকি’ বলে। ভালো জাতের ওলের জন্য বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ভালো জাতের ‘চাকি’ সংগ্রহ করতে হয়।
চৈত্র-বৈশাখ মাসে ভালো করে চাষ করা জমিতে ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার গভীর মাটিতে রোপণ করতে হয়। আর কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ওল তোলা শুরু হয়। খানসামায় ১২ চাষি চলতি মৌসুমে মাদ্রাজী জাতের ওলকচু চাষ করছেন। আশা করি তারা ভালো ফলন এবং ভালো বাজার মূল্য পাবেন।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au