প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
সেতাউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্তনাদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ঘোষণা করলেও তাদের অনেকের ভাগ্যে স্বীকৃতি মিলেনি।
আর এ জন্য অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধারা পক্ষাঘাত মূলক আনুকুল্য, স্থাণীয় সাংসদের প্রভাব, মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশ, জামুকা ও মন্ত্রণালয়ের কিছু অসৎ কর্মকর্তাদের দূর্ণীতির কারণকে দায়ী করেছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই আজো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে হাতাশায় মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন তারা।
অনেক মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও আঞ্চলিক অন্তর্দ্বন্দ কিংবা কোন অজ্ঞাত কারণে তাদের ভাতা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ কালিন কমান্ডারকেও মানবতা বিরোধী সিদ্ধান্তের স্বীকার হতে হয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া অপরদিকে স্বীকৃতি পেয়েও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ধু¤্জালের সৃষ্টি হয়েছে।
আবার কেউ কেউ অমুক্তিযোদ্ধা হয়েও সরকারীভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভূক্ত হয়ে ভাতা ভোগ করে আসছেন। এমন তালিকায় যুদ্ধকালিন সময়ে পাকিস্থানী বাহিনীর মদদ দাতারও নাম বাদ পড়েনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অনেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আজো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি।
এ যেন লজ্জার, যেন মানবতা বিরোধী অস্থান বলে অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্তনাদ। তথ্য সংগ্রহকালে কথা হয়, বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মর্তুজা, বেনজির আহম্মেদ, মোকবুল হোসেন, একরামুল হক, এনামুল হক, নজরুল ইসলাম, আঃ মতিন, বজলার রহমান, সাদ আক্কাস, বাদরুল ইসলাম, মোস্তাফিকুর রহমানসহ আরো কয়েকজনের সাথে।
এই সব বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের জোর দাবি, ইউনিয়ন পর্যায়ে যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু করলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তালিকাভূক্ত হবে এবং স্বাধীনতা বিরোধী ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা থেকে বাদ পড়বে। তবেই হবে স্বচ্ছ, নির্ভেজাল যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা তৈরী হবে।
ভূয়া ও রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা তৈরী করে তাদের ভাতা প্রদান নিয়মিত করলেই জাতি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে । বঞ্চিত জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা দেশমাতৃকাকে রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে জাতীয় স্বার্থে উজ্জিবীত হয়ে প্রাণ বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।
তাদের এই গৌরবগাঁথা জীবনকে স্বর্ণক্ষচিত করে রাখা উচিৎ। কিন্তু আজ সেটা না করে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতার কারনে মানবিক জীবন যাপন করতে হচ্ছে এই সূর্যসন্তানদেরকে। তাই বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধারা অতিকষ্টে লালন শাহের পংক্তিমালা উচ্চারণ করে বলেন, “কাঁনার হাট বাজার, বেধবিধির পর শাস্ত্র কানা, পন্ডিত কানা অহংকারে, সাধুকানা অবিচারে, বিচারক কানা চোগলখোরে, আন্দাজী সে খোটা গাড়ে জানেনা সীমানা কার, এ যেন কাঁনার হাট বাজার।”
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au