প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
জিল্লুর রহমান জয়, বাগমারা (রাজশাহী) : বন্যার পানিতে ভাসছে রাজশাহীর বাগমারা। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৩টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে ভাসছে। পানিবন্ধী হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। ইউনিয়নগুলোর বন্যায় পানি ঢোকার কারণে শতশত কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উঁচু জায়গাতে। উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে ওই সকল ইউনিয়নগুলোর। ক্ষতিগ্রস্ত তালিকা তৈরী করছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়নের সদস্যরা।
এদিকে বাগমারা ঝিকরা ইউনিয়নের চকসেউজবাড়ী গ্রাম ৯০ শতাংশ পানিতে ভাসছে। চরম দূর্ভোগে ভুগছে গ্রামবাসীরা। বন্যার সাথে সাথে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধির কারণে রাতে ঘুমানোর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আতঙ্কে কাটছে নির্ঘুম রাত। অনেক কাচা ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ভেঙে পড়েছে। ব্রিজে কুচুরিপানা আটকে যাওয়ার কারণে গ্রামে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই গ্রামবাসীরা ব্রিজের নিচে দিনরাত পরিষ্কার করছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঝিকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হামিদ ফোজদার সরোজমিনে চকসেউজবাড়ী গ্রাম পরিদর্শনে আসেন। তিনি গ্রামবাসীকে আশ্বাস দেন এবং সকলকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দেন।
সরকারীভাবে এখনো ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের আলাদা আলাদা তালিকা তৈরীর নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা শরিফ আহম্মেদ। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। তবে কাচারী কোয়ালীপাড়া, সোনাডাঙ্গা, গোবিন্দপাড়া, দ্বীপপুর, বড়বিহানালী, ঝিকরা, যোগীপাড়া, গনিপুর, বাসুপাড়া শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
অপর দিকে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নতুনভাবে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রান্নাবান্নার জায়গা না থাকায় অনেকেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কিছু এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি নিজ ইউনিয়ন বড়বিহানালী এলাকাতে খাবার বিতরন করেন।
এবারের বন্যায় কত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানাতে পারেননি উপজেলা প্রশাসন। দুই এক দিনের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বন্যার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সব সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সরকারের ওপর মহলে যোগাযোগ করছে। তালিকা তৈরীর পর পরই বানভাসীদের মাঝে সরকারী ত্রাণ বিতরন শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বন্যায় উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ধান পানির নীচে ডুবে গেছে। এছাড়াও পুকুর ও বিলের চাষ করা কয়েক হাজার কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। পানবরজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি নির্ধারন করা সম্ভব হবে বলে এলাকার একাধিক কৃষক জানিয়েছেন। এলাকার বানভাসীদের অভিযোগ বন্যার পানি বাড়িতে ঢোকার পরেও উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজখবর নেয়নি। তারা রান্নার অভাবে অনেকেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল বানভাসী মানুষদের মাঝে ত্রান বিতরন করবেন। যার কারনেই দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে বানভাসীদের তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করেছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ জানান, ক্ষতির পরিমান নির্ধারণের জন্য স্ব স্ব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যেই ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগগ্রস্তদের সরকারীভাবে সহযোগীতা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au