প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
জিল্লুর রহমান জয় : শীত মওসুমের চলে গেছে দুই মাস। আশ্বিন মাস থেকে শীত পড়ার কথা থাকলেও এবার আশ্বিনে শীতের দেখা মেলেনি। এমনকি কার্তিক মাস পড়ার পরও রাজশাহীতে ছিল না শীতের আমেজ। এই দুই মাস শীতের শুরুর মাস হলেও কাঙ্খিত শীত ছিল না। কিন্তু কার্তিক মাস শেষের পথে এসে রাজশাহীতে শীতে পড়তে শুরু করেছে।
বলাই যায়, কার্তিক মাসের একেবারে শেষে এসে শনিবার থেকে মিলেছে শীতের দেখা। শুধু তাই নয়, গত এক সপ্তাহ থেকে রাজশাহীতে হালকা শীতের আমেজ বিরাজ করে। গতকাল শনিবার ছিল এ মাসের সর্বোচ্চ শীত অনুভুত হয়েছে। শীত পড়ার সাথে সাথে এদিন দিনভর সুর্যের মুখ দেখা যায়নি। পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকে হয়েছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি।
রাজশাহীতে এবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বর্ষা মওসুমে রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহীতে। যার প্রেক্ষিতে এবার শীতও অনেক আগেই আসবে এমনটাই ধারণা ছিল আবহওয়া অফিসের। কিন্তু শীতের মাস পড়ার পর ধারণা পাল্টে যায়। এবার আশ্বিন ও কার্তিক মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম ছিল।
এতে রাজশাহীর মানুষ প্রায় ভুলতেই বসেছিল শীতের অনুভুতি। হঠাৎ করে কার্তিক মাসের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর রাজশাহীর তাপমাত্রায় আসে আমুল পরিবর্তন। এই পরিবর্তন জানান দেয় শীতের আগমতি বার্তা। কার্তিক মাসে শীতের দাপট থাকার কথা থাকলেও সেই দাপট ছিল না।
কিন্তু কার্তিক মাসের একেবারে শেষে এসে রাজশাহীতে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। শীতের প্রথম দিন অর্থৎ শনিবার দিনভর শীত অনুভুত হয়েছে। সাথে ছিল থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বিশেষ করে সুর্য চোখ বন্ধ করায় শীতের তীব্রতা একটু বেশি অনুভুত হয়। আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি বাড়িয়ে দেয় শীতের তীব্রতা। সব মিলিয়ে রাজশাহীতে এ মাস থেকেই শীত তার দাপট দেখাবে এমনটাই মনে করছে আবহাওয়া অফিস।
ঢাকা আহাওয়া অফিস বলছে, দেশের আকাশে পূবালি ও পশ্চিমা বায়ুর সংমিশ্রণ ঘটেছে। এর প্রভাবে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। আগামী আরও দুইদিন এই আবহাওয়া থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমতে পারে। পূবালি ও পশ্চিমা বায়ুর সংমিশ্রণের প্রভাবে রাতে কমবে তাপমাত্রা। মধ্যরাতের পর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি বিরাজ করবে।
আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে বলেও আবহাওয়া অফিসের পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে। এতে আবহওয়া অফিস ধারণা করছে চলতি মওসুমের শীত শুরু হয়ে গেছে। এখন আর দিনের তাপমাত্রা বাড়ার কোনো সম্ভবনা নেই। এখন প্রতিদিন দিনের তাপমাত্রা কমবে।
এতে বৃদ্ধি পাবে শীতের তীব্রতা। এমনকি আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সুর্যের মুখ নাও দেখা যেতে পারে। কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গিয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে লঘুচাপ হিসেবে উদ্ভন্ন তামিলনাড়ু ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।
এটি গুরুত্বহীন হয়ে যেতে পারে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তং এলাকায় অবস্থান করছে। স্বাভাবিক মৌসুমী লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এদিকে এবার অন্য বছরগুলো চেয়ে শীতের তীব্রতা বেশি হবে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া অফিস। এবার শীতের সাথে শৈত্যপ্রবাহের দাপট থাকবে দীর্ঘ সময়। শৈত্যপ্রবাহের সাথে ভারি কুয়াশার সম্ভবনা রয়েছে। কারণ এবার শীত আসতে অনেকটা দেরি করেছে। যে সময়জুড়ে শীত থাকবে সেই পুরো সময় শীতের তীব্রতা অন্য বছরগুলোর তুলনায় বেশি হবে।
এবার ডিসেম্বরের শুরুতেই এবার প্রথম দফায় শৈত্যপ্রবাহের সম্ভবনা রয়েছে। পুরো ডিসেম্বর মাস ব্যাপী এবার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে রাজশাহীর উপর দিয়ে। জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে রাজশাহীর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে আসবে বলেও ধারণা করছে আবহাওয়া অফিস।
একই সাথে এবার শীতে বৃষ্টিও বেশি বেশি। যদিও বলা হয় ‘ঊনো বর্ষায় দুনো শীত ’ এ খনার বচনটি এবার খুব বেশি প্রজয্য হবে না বলেও মনে করছে আবহাওয়া অফিস। কারণ যে বছর বৃষ্টিপাতের পরিমান বেশি সেই বছর শীত কম হয়। আর যে বছর বৃষ্টিপাতের পরিমান কম থাকে সেবছর শীতের দাপট বেশি হয়।
এবার তার উল্টোটা ঘটতে পারে এমনটাই ধারণা করছেন আবহওয়াবিদরা। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে ‘আশ্বিনে গা করে শীন শীন’ এই খনার বচনটি আর সত্য হয় না। আশ্বিন মাসে আগে শীতের দেখা মিলতো। এখন আর আশ্বিন মাসে শীতের দেখা মেলে না। এবার পুরো আশ্বিন মাসজুড়েই ছিল তীব্র রোদ ও তীব্র গরম। যা হওয়ার কথা ছিল না।
এদিকে শীত বাড়ায় রাজশাহীর গরম কাপড়ের দোকানে বেড়েছে ভীড়। চলতি মাসের প্রথম থেকে বস্ত্রবিতানিগুলোতে ভীড় লক্ষ্য করা গেলেও গত দুদিন থেকে এ ভীড় আরো বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ শনিবার দিনভর লোকজনদের শীতের পোষাক কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।
ফুটপাত কিম্বা মার্কেট সবখানেই লোকজনের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতারা যে যার সাধ্যমত কেনাকাটা করছেন। তবে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখানো নতুন শীতের পোষাক উঠেনি।
যা পাওয়া যাচ্ছে তা গত বছরের। বিক্রেতারাও একই কথা বলছে। বিক্রেতারা বলছেন এবার শীত না পড়ায় এখনো নতুন পোষাক আমদানি করা হয়নি। এখন শীত বাড়ায় ঢাকায় নতুন পোষাকের জন্য অর্ডার দেয়া হয়েছে। এ সপ্তাহেই চলে আসবে।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au