গোদাগাড়ীতে চোরের মায়ের বড় গলা, সংবাদ করলেই বিপদে সাংবাদিক!
বিভাগীয় স্পেশাল চীফ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালুমহাল ইজারার নামে একটি সিন্ডিকেট রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ, ফরিদপুর ও সারাংপুর থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহন করছে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় তেল দিয়ে এই অবৈধ কারবারে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ২ কোটি টাকায় ইজারা নেয়া গোদাগাড়ীর বালুমহাল ইজারাদার জাহাঙ্গীর অ্যান্ড সন্স।
জাহাঙ্গীর অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। এ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে গেলে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত হন সংবাদকর্মীরা।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবং ক্ষতিগ্রস্থ ইজারাদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার সকালে বেসরকারি চারটি চ্যানেলের সংবাদকর্মীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহে যান। প্রথমে তারা সুলতানগঞ্জ ফরিদপুর অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র ধারণ করেন ও স্থানীয়দের বক্তব্য সংগ্রহ করেন। পরে তারা সারাংপুর বালুঘাটে গেলে এই দুই স্থানের অবৈধ বালু কারবারি আনারুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে তার ছেলে রুমন বিশ্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনী সংবাদকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে সকলের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নেয়।
সন্ত্রাসী রুমন বাহিনীর মৃত আসগর আলীর ছেলে সানাউল্লাহ, মৃত ফুয়াদ আলীর ছেলে কিবরিয়া ও তার ভাই কাজল, বাটুলের ছেলে রাজিব, মান্নান আলীর ছেলে বাবু, মৃত ফজলু বেপারীর ছেলে কাসিম আলী, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে রহিম আলীসহ ২০ থেকে ৩০ জন সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালিন আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি, শারীরিক লাঞ্ছিত করে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এর পর বালু কারবারি আনারুল বিশ্বাস নিজে এগিয়ে সাংবাদিকদের উপর লাঠিচার্জ করে।
পরে খবর পেয়ে গোদাগাড়ী থানার পুলিশ ও স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম গিয়ে সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করে। এ সময় আনারুল পুলিশের কাছে সংবাদকর্মীদের চাঁদাবাজ বলে প্রচার করে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যান বালু কারবারি আনারুল ও সন্ত্রাসী রুমনের হামলা এবং অশালিন আচরণের ধারণ করা চিত্র দেখার পর মোবাইল ও ক্যামেরা ফেরত দেন।
এশিয়ান টেলিভিশনের রাজশাহী প্রতিনিধি মুরাদুল ইসলাম সনেট বলেন, গোদাগাড়ী থানার ওসি খাইরুল ইসলামকে অবগতি করে চারটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সংবাদকর্মীরা গোদাগাড়িতে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ করতে গিয়েছিলাম। হামলার পর বিষয়টি সাথে সাথে পুলিশকে জানানো হয়।

গোদাগাড়ীতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ২ কোটি টাকায় ইজারা, চোরের মায়ের বড় গলা, সংবাদ করলেই বিপদে!
অন্যদিকে আরেক সাংবাদিক সাফিয়ান স্বাধীন বলেন, গোদাগাড়ী দূর্নীতি ও অবৈধ্য ব্যবসার শীর্ষে এদের বিরুদ্ধে কোন সংবাদ কর্মী তথ্য সংগ্রহ করতে গেলেই তারা ইউএনও এবং থানাকে ফোন দিয়ে সাংবাদিকদের চাঁদাবাজ বানানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, তারা নিজেরাই অবৈধ্য ব্যবসা করেন আবার তারাই কিভাবে ইউএনও এবং থানাকে ফোন দিয়ে বলতে পারে যে, সাংবাদিক চাঁদা দাবি করছেন। এমন অসত্য ও বানোয়াট ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং ঘ্রীনা জ্ঞপনও করেন সাংবাদিক স্বাধীন।
এই ব্যাপারে ওসি খাইরুল ইসলাম কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ফোনে বিষয়টি জানান পর দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠানো হয় এবং সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করি। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সমোঝতা করে দেয়। এর পরও অভিযোগ দিলে আনারুল বিশ্বাস ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অবৈধ বালু কারবারি আনারুল বিশ্বাস গোদাগাড়ী উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সজিকিউটিভ ম্যজিস্ট্রেট ইমরানুল হক বলেন, সারেংপুর এলাকায় এর আগে পদ্মা নদীর পাড়ে বালু মজুদের বিষয়টি নিষেধ করা হয়েছিলো। সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে সুলতানগঞ্জে বালু তুলার বিষয়টি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাণীনগর নামক একটি মোজা লিজ দিয়েছে। সেখান থেকে বালু উত্তলন করে তারা রাজশাহীর সীমানায় মজুদ করছে। এতে এলাকাবাসীর সমস্যা হলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এ বিষটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি স্যারের সাথে ও রাজশাহীর ডিসি স্যারের সাথে কথা বলে তারা এটার সমাধান দিতে পারবেন।
গোদাগাড়ী উপজেলার চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তবে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু মুজুদ করার জন্য এলাকাবাসী এবং ইজারাদারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ কথাবলেন তিনি।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগে জানা গেছে, আনারুল বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি পদ্মা নদীর গোদাগাড়ী এলাকার ১৩নং মৌজার বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছেন। সেই বালু তুলে জমা করছেন গোদাগাড়ী পৌরসভার সারাংপুর বালুঘাটের জোতগোসাই দাস ও সুলতানগঞ্জের ফরিদপুর এলাকায় মজুদ করছেন। সেখান থেকে আনারুল বিশ্বাস বালু বিক্রি করছেন।
আনারুল বিশ্বাস গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অয়েজুদ্দিন বিশ্বাসের আত্মীয়। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আনারুল সিন্ডিকেট রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী এলাকায় অবৈধভাবে বালু তুলছেন।
জানা গেছে, গোদাগাড়ীর যে এলাকা থেকে আনারুল বিশ্বাস সিন্ডিকেট বালু তুলছে সেই বালুমহালটি ইজারা নিয়েছেন রাজশাহীর জাহাঙ্গীর আলম অ্যান্ড সন্স। সম্প্রতি তিনি তার ইজারা নেয়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, মজুদ ও বিক্রি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু প্রশাসন রহস্যজনক কোনো কারণে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালু উত্তোলনকারী আনারুল বিশ্বাসের বাড়ি গোদাগাড়ী পৌর এলাকার সারাংপুরে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একটি বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন এমন প্রচার চালিয়ে তিনি বালু মজুদ ও বিক্রি করছেন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থেকে। তবে আনারুল বিশ্বাসের দাবি তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ নদী সীমানা থেকে বালু তুলছেন। তবে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে গোদাগাড়ী এলাকায় মজুদ, পরিবহন ও বিক্রি করছেন।
নতুন সময়/ঢাকা অফিস/বাংলাদেশ-১১.৪৮ পিএম